সল্টলেক এ.ই. ব্লকে খুঁটিপুজো

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা হয়ে গেল। রবিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের এ-ই ব্লক (পার্ট -১) শিউলি ফুলের গন্ধ, ঢাকের তাল, শঙ্খর ধ্বনি সব মিলিয়ে উমার আগমনের তোড়জোড় প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছিল সকলে। সল্টলেকের এ-ই ব্লক (পার্ট -১) আহ্বায়ক সুপ্রিয় চক্রবর্তীর সমগ্র অনুষ্ঠানটি সফল হয়। 

রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি রীতি। প্রতি বছর রথযাত্রার দিন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলের খুঁটি পুজো হয়। খুঁটি পুজোর মাধ্যমেই দুর্গা পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে। এদিন পুজো করতে না পারলে, পরের অন্যান্য শুভ দিনগুলিকে বেছে নিতে হয়। কত কয়েক বছর ধরে জাকজমক করে খুঁটি পুজো উৎসব পালন করা একটা ট্রেন্ড। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ঐতিহ্য- কাহিনি।খুঁটি পুজো হল দুর্গাপুজোর একটি আচার যা রথযাত্রার দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত দুর্গাপুজোর সূচনা হিসেবে ধরা হয় এবং প্যান্ডেল তৈরির জন্য খুঁটি পোঁতার আগে এই পুজো করা হয়। এই দিনটিকে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসাবেও ধরা হয়।
 এই পুজো দেবীর মূর্ত প্রতীককে মণ্ডপে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। খুঁটি পুজোর মাধ্যমে মণ্ডপ এবং দেবী মূর্তিকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়, যাতে কোনও অশুভ শক্তি তাদের ক্ষতি করতে না পারে। খুঁটি পুজোর ধারনাটি এসেছে প্রায় শত বছর পুরনো এক রীতি থেকে। আগে এত ক্লাব, থিম, প্রতিযোগীতার পিছনে ছোটাছুটি ছিল না। পুজো মানেই ছিল বনেদি বাড়ির সাবেকি প্রতিমা। আর সেই সময় মূলত বাড়ির ঠাকুর দালানে গড়া হত প্রতিমা। অনেকেই রথযাত্রার শুভ দিনে, মাটির প্রতিমার কাঠের ফ্রেমকে পুজো করতেন।
 যেটি কাঠামো পুজো বলেই পরিচিত। এরপর একটু একটু করে গড়ে উঠত দুর্গা প্রতিমা।এক সময় পুজো প্যান্ডেল মানে ছিল বাঁশ ও রঙিন কাপড়ের তৈরি। ধীরে ধীরে সেই বাঁশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থার্মোকল, চট, প্লাস্টিক, কাঠ, পাট প্লাস্টার অফ প্যারিস, সিমেন্ট আরও কত রকমারি সামগ্রী। কলকাতার হেভিওয়েট পুজো প্যান্ডেলগুলোর পাশাপাশি, ছোটখাটো প্যান্ডেলেও থাকে থিমের নয়া চমক৷ যত দিন যাচ্ছে বেড়ে চলেছে খুঁটি পুজোর চাকচিক্য। আগের পুজো প্যান্ডেলের উদ্বোধনে দেখা যেত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুঁটি পুজোর দিন থেকে বিভিন্ন তাবড় পুজো প্যান্ডেলগুলিতে বসে আমন্ত্রিত তারকাদের হাট।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। রথের রশিতে টান পড়তেই শুরু হয়ে যায় শারদ উৎসবের সূচনা।আর আজ সল্টলেকের AE ব্লক পার্ট ১ এর খুঁটি পুজো হয়ে গেল।তাঁদের এ বছর পুজো ৪২ তম বর্ষে পদার্পন করল। আর আজ তাঁদের খুঁটিপুজোর পাশাপাশি ব্যানার ও উন্মোচন হয়। সব মিলিয়ে আজকের সন্ধ্যা জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়।
 আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বোস। বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। রঞ্জন পোদ্দার। সমুদ্র বোস। তুলসী সিনহা রায়। বিধাননগর Ic north প্রতীক বসু। শাসত্ব বসু। সন্দীপ সাহা। শিল্পী তথা পুলিশ প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ সকলের উপস্থিতিতে আজকের অনুষ্ঠান সফল হয়। আর এই সমগ্র অনুষ্ঠানের মূল আহ্বায়ক যার পৃষ্টপোষকতায় আজকের অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর করে হয় তিনি হলে সুপ্রিয় চক্রবর্তী। ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুন্ডু। সভাপতি প্রবাল দে।

Popular posts from this blog

সংগঠন ও সমর্থনের জোরে এগিয়ে কামরুজ্জামান? ডোমকল প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জোর জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দশম–একাদশ দ্বিবার্ষিক রাজ্য সম্মেলন

Once Called Handicapped, Today They Run: 120 Children Celebrate ‘Club Foot Champions Day’ to rewrite their life story