গবেষণাগ্রন্থ 'রবিকরে নবরূপে বঙ্গদর্শন' আত্মপ্রকাশ - ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী চিন্তার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অনন্য ও চিরস্মরণীয় নাম। কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও দর্শনের মাধ্যমে তিনি কেবল বাঙালির মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেননি, বরং ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমানচিত্রে সপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও মানবতা, স্বাধীনতা ও সৃজনশীল চেতনার এক অনন্ত অনুপ্রেরণাস্রোত।
একদা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যকে উন্নতির পথে পরিচালিত করার মহান লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্ধিমচন্দ্রের এই উদ্দেশ্যকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহৎ বলে স্বীকার করেছিলেন। সেই উপলব্ধির ফলেই রবীন্দ্রনাথ বঙ্গদর্শনকে পুনরায় প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি এই পত্রিকাকে কেবল বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি; বরং সর্বকালের সাহিত্যের এক আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
যদিও সাধনা ও সমগ্র ভারতী পত্রিকাকে বেরাজ করে একাদিক পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ও গ্রন্থ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, তথাপি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা নবপর্যায় বঙ্গদর্শন-যে পত্রিকার সম্পাদনায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রপত্রিকার তুলনায় সর্বাধিক সময় ব্যয় করেছিলেন--সেই গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকাকে নিয়ে এতদিন কোনও পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। এই শূন্যস্থান পূরণের প্রয়াসেই গবেষক ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ রচনায় উদ্যোগী হন।
মোট চৌদ্দটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই গবেষণাগ্রন্থের প্রথম অধ্যায় 'পূর্বকথা / বঙ্কিমচন্দ্র ও তাঁর কালের বঙ্গদর্শন: রবীন্দ্রনাথের চোখে' শিরোনামে নিবেদিত। এই অধ্যায়ে বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত বঙ্গদর্শন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলা সাহিত্যে বঙ্গদর্শনের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডঃ শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৬ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন। তাঁর গবেষণাপত্রটি গ্রন্থাকারে প্রকাশের পরামর্শ প্রদান করেছিলেন অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য মহাশয়, যাঁর তত্ত্বাবধানে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়। এই প্রসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান স্বর্গীয় জীবেন্দ্র সিংহ রায় মহাশয়ের নাম কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়েছে। অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্যের মূল্যবান উপদেশ ও নির্দেশ গবেষককে বিশেষভাবে ঋণী করেছে।
শ্রী সুবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্তরিক উৎসাহে গ্রন্থ রচনায় আগ্রহ জন্মায় এবং তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেন শ্রীমান প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীমতী শিল্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীমতী সুনৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ ও আবদারেই গ্রন্থটির চূড়ান্ত রূপায়ণ সম্পন্ন হয়। গ্রন্থটির নাম-

'রবিকরে নবরূপে বঙ্গদর্শন'

এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থের শুভ আত্মপ্রকাশ ১১ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতার আইটিসি রয়‍্যাল বেঙ্গল-এ।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত-

নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, লেখক ও ভারতীয় মহাকাব্য-পণ্ডিত),

দেবাশিস চন্দ (লেখক, শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ ও আজকাল পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর),

দেবাঞ্জন মণ্ডল (রয় অ্যান্ড মার্টিন-এর কর্ণধার),

আয়নভ দেবগুপ্ত মেনিপাল হসপিটালস ইস্ট-এর আঞ্চলিক সিইও),

ডঃ কুশাগ্রাধি ঘোষ (ইনস্টিটিউট অফ ফিটাল মেডিসিন-এর পরিচালক),

অনুপম হালদার (ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি বিভাগের যুগ্ম কমিশনার),

এবং শেখর সেনগুপ্ত (সাংবাদিক)।

Popular posts from this blog

সংগঠন ও সমর্থনের জোরে এগিয়ে কামরুজ্জামান? ডোমকল প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জোর জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দশম–একাদশ দ্বিবার্ষিক রাজ্য সম্মেলন

Once Called Handicapped, Today They Run: 120 Children Celebrate ‘Club Foot Champions Day’ to rewrite their life story